রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ‘ভুয়া বিয়ের’ নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী হাজিপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আফজাল হোসেন ওরফে নাসির উদ্দিন (৩৫), যিনি ওই গ্রামের মৃত ওবায়দুল ইসলামের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিউলি খাতুনের অভিযোগ, পশ্চিমভাগ এলাকার বাসিন্দা নাসিরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাসির গত ৬ মাস ধরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। একপর্যায়ে নাসির বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার খবর পেয়ে গত রমজান মাসে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও একজন স্কুল শিক্ষকের উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে সেই বিয়েতে কোনো সরকারি রেজিস্ট্রি (কাবিন) করা হয়নি, শুধুমাত্র মৌখিকভাবে ‘কালেমা’ পড়িয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসির ইতিপূর্বেও দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের তালাক দিতে বাধ্য করেন।
বিয়ের মাত্র দুই মাস যেতে না যেতেই গত ৩০ এপ্রিল শিউলি খাতুনের হাতে একটি তালাকনামা ধরিয়ে দেন নাসির। ভুক্তভোগী নারীর প্রশ্ন, "যেখানে বিয়েই রেজিস্ট্রি করা হয়নি, সেখানে তালাকনামা কীভাবে আসে?" তিনি অভিযোগ করেন, তাকে আইনি জটিলতায় ফেলতেই এই পরিকল্পিত নাটকের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
বিয়েটি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়নি এবং এটি আইনত বৈধ নয়। বিয়ের সময় উপস্থিত থাকা মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মজিদও জানান, বিয়েটি বেআইনি ছিল তবে স্থানীয় চাপের মুখে তারা এটি সম্পন্ন করেছিলেন।
পুঠিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদেকুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, "প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ছেলেটি মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু জানান, রেজিস্ট্রি না হলেও তিনি তালাক দিয়েছেন এবং বিষয়টি এখন পুলিশ দেখবে।