ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিরোধী দল দমনে রাজশাহীতে 'মিথ্যা মামলার' অন্যতম কারিগর আলোচিত দুই ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক প্রজ্ঞাপনে মোট ৪৯ পুলিশ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরমধ্যে রাজশাহীর দুই ওসি রয়েছেন।
তারা হলেন- রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ এবং নিবারন চন্দ্র বর্মন।
জানা গেছে, এস এম মাসুদ পারভেজ আগে রাজশাহীর মোহনপুর, পবা, কাশিয়াডাঙ্গা, বোয়ালিয়া ও তানোর থানার ওসি ছিলেন। মোহনপুর থানায় থাকাকালীন তৎকালীন বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী ও নিরীহ জনগণকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন তিনি। রাতের বেলা বাসা থেকে তুলে এনে মিথ্যা মামলা সাজাতেন। চাঁদা না পেলে আদালতে আবেদন জানাতেন রিমান্ডের। এরপর রিমান্ডে নিয়ে চালাতেন নির্যাতন। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালাতেন বিনা ওয়ারেন্টে। শিক্ষক ও ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন মাসুদ পারভেজ। হাসিনার পতনের পর চাকরি বাঁচাতে বিএনপি ও জামায়াতের সাথে লিয়াজু করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হলো।
এদিকে, নিবারন চন্দ্র বর্মন প্রায় তিন বছর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি তাঁকে বোয়ালিয়া থানা থেকে সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের সময়ে তাকে জামালপুরের একটি থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। আরএমপির বোয়ালিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ওঠে।
এ ঘটনায় রাজশাহীর জনগণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চাকরিচ্যুত এ দুই ওসির বিচার দাবি করেছেন।
যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় জনস্বার্থে মোট ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।