চাঁপাইনবাবগঞ্জের দর্শনা থানায় দায়ের হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক শিশু অপহরণ মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। একই সঙ্গে অপহরণ চক্রের মূলহোতা ও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া ও বোয়ালিয়া থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৫-এর বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ আগস্ট সকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন প্রতাপপুর দক্ষিণপাড়ার একটি বাড়ির সামনে থেকে খেলাধুলার জন্য বাইরে যায় ১৪ বছর বয়সী ওই শিশু। পরে সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন সকালে ভিকটিমের বড় ভাই মাসুদ রানা (২৭)-এর মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ফোন করে ভিকটিমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থার ছবি পাঠায়। একই সঙ্গে ভিকটিমকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে দর্শনা থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ও র্যাব তদন্ত শুরু করে। পরে ভিকটিমের মামা মো. আব্দুল আলীম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫-এর সদর কোম্পানির একটি দল রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন লক্ষ্মীপুর মোড়ের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে। একই অভিযানে অপহরণ চক্রের মূলহোতা **মো. সুমন খান (৩৭)**কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।
এরপর রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন বর্ণালী আবাসিক হোটেল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপহরণ চক্রের সদস্য **মো. রুবেল শেখ (৩৮)**কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ মধ্যপাড়ার বাসিন্দা।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার করা শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।