তিন ফসলি আবাদি জমি রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীর বাগমারায় সেই আদেশকে অমান্য করে প্রকাশ্যে চলছে পুকুর খনন বাণিজ্য। এ ঘটনায় খাদ্য নিরাপত্তা ও আদালতের কর্তৃত্ব নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মৌজায়, কামারের ঘাট সংলগ্ন মমিন কমিশনারের বাড়ির পাশে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৫ বিঘা আবাদি কৃষিজমিতে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে দিন-রাত মাটি কেটে গভীর পুকুর খনন করা হচ্ছে। মৎস্য চাষের অজুহাতে এই উর্বর জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর ফলে আশেপাশের আরও ১০০ বিঘা জমির সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগমারায় অবাধে কৃষি জমিতে পুকুর খননের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন নং ৪৩৫৩/২০১৭ দায়ের করা হয়। ৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ, বাগমারায় অবৈধ পুকুর খনন কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুলনিশি জারি করেন আদেশ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সকল অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ দেন। আদেশ প্রতিপালনে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমিকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে যথাযথভাবে জারি করা আছে এবং আদেশটি আজও বলবৎ আছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বলবৎ থাকা হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুকুর খনন করা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল এবং দন্ডনীয় অপরাধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ফসলি জমি কোনো ভাবেই নষ্ট করা যাবে না। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কৃষিজমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাগমারা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে অবিলম্বে খনন বন্ধ, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।