শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, দেশব্যাপী ক্রমাগত নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা রাবি শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ নারী শিক্ষার্থী ছাড়াও ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন হল, অনুষদ ও বিভাগের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক রুমানা আক্তার। দেশে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
"এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এদেশে আমরা আমাদের সন্তানদের কীভাবে মানুষ করব, কীভাবে বড় করব? যেখানে আমার শিশু নিরাপদ না, আমি নিরাপদ না, সেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা সমাজকর্মী হিসেবে কীভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করব?"
ধর্ষকদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবীদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "ধর্ষণকারীদের যথাযথ শাস্তি ও জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু যেসব আইনজীবী এই ধর্ষকদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন, তাদের আমি ধিক্কার জানাই। মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমেই জনগণকে জানিয়ে দেওয়া উচিত যে একজন ধর্ষকের শাস্তি কতটা ভয়াবহ হওয়া উচিত।"
'বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধের মূল কারণ'
মানববন্ধনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্নুজান হলের ভিপি সুমাইয়া জাহান বলেন, "সাত বছরের একটি শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আসলে কোন সমাজে বসবাস করছি? আজ থেকে দশ বছর আগে তনুকেও একইভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল, আজ আছিয়াসহ অনেক শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। ঘরের বাইরে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।"
সমাপনী বক্তব্যে রাবি শাখা ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী ও রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়িদা হাফসা দেশে আইনের শাসন ও নৈতিক শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন:
"দেশে প্রতিনিয়ত এই ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এর কোনো সঠিক বিচার হচ্ছে না। ধর্ষকদের নামে মামলা হচ্ছে, গ্রেফতারও হচ্ছে; কিন্তু যে শাস্তিটা অপরাধীদের মনে ভয় ধরাবে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এই বিচারহীনতাই মূলত ধর্ষণের পেছনের মূল কারণ। একই সাথে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশে আইনের শাসন না থাকাও এর জন্য দায়ী।"
তিনি অবিলম্বে শিশু রামিসা হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে 'দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক' শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানান।