রাজশাহীর পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় জানার চেষ্টা করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় আনুমানিক ২৩ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের পরনে ছিল নেভি ব্লু রঙের জিন্স প্যান্ট ও টিয়া রঙের টি-শার্ট। মরদেহের গলায় একটি গামছার অংশ প্যাঁচানো ছিল এবং সেই গামছারই অপর অংশ দিয়ে তার দুটি হাত পেছনে বাঁধা ছিল। মরদেহটি বেশ কয়েকদিন আগের হওয়ায় তাতে পচন ধরতে শুরু করেছে।
নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাকে এই এলাকায় হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে, নাকি অন্য কোথাও থেকে মরদেহ ভেসে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলটি নৌ পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নৌ পুলিশ পরিচালনা করছে। রোববার (২৪ মে) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
রাজশাহী মহানগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বিকাশ মণ্ডল বলেন, "লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু মরদেহে পচন ধরায় স্পষ্ট আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি এবং এনআইডি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গেও কোনো মিল মেলেনি।"
তিনি আরও জানান, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহের দাফন এবং মামলা দায়েরের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।