রাজশাহীর বেলপুকুর থানা এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে এক গৃহবধূকে (৪১) জিম্মি ও অচেতন করে ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনায় মূলহোতা কথিত পীর আব্দুল হামিদ ফকির (৬৫) এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার তথাকথিত ‘আল-চিশতিয়া খানকা শরীফ’ নামের আস্তানায় ঝুলছে তালা, আর পলাতক রয়েছে এই ভন্ড পীর।
তবে এই নৃশংস ঘটনায় সরাসরি সহযোগিতা করার অভিযোগে ভুক্তভোগীর স্বামী মো: রুবেলকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ৬ মাস আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বেলপুকুর থানার জামিরা এলাকার মৃত মুসা শাহের ছেলে রুবেলের সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। চক ধাদাশ দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজের আমবাগানের ভেতর ‘খানকা শরীফ’ তৈরি করে নিজেকে আল-চিশতিয়া তরীকার পীর দাবি করে আসছিলেন আব্দুল হামিদ ফকির। আসামি রুবেল ওই ভন্ড পীরের মুরিদ হওয়ার পর, গত ২ মাস আগে তার স্ত্রীকেও ফুসলিয়ে ওই আস্তানায় নিয়ে যান।
গত ২ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে স্বামী রুবেল তার স্ত্রীকে বাণেশ্বর বাজারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কৌশলে একটি জুস কিনে খাওয়ানো হয়। জুস খাওয়ার পরপরই ওই গৃহবধূ শারীরিক ও মানসিকভাবে অচেতন ও ভারসাম্যহীন বোধ করতে থাকেন। এই সুযোগে রুবেল তাকে নিয়ে পীরের আস্তানার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং রাত সাড়ে ৮ টায় সেখানে পৌঁছান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আস্তানায় পৌঁছানোর পর স্বামী রুবেল তার স্ত্রীর শরীরের কাপড় খুলে জোরপূর্বক খানকার ভেতর ঢুকিয়ে দেয় এবং নিজে দরজার বাইরে পাহারা দেয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভেতর একা অবস্থান করা আব্দুল হামিদ ফকির, স্বামী রুবেলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের ফলে ওই নারী পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়ায় কোনো চিৎকার করতে পারেননি। পরে অচেতন অবস্থাতেই স্বামী রুবেল তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরদিন দুপুরে জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য স্বামী রুবেল তাকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
পরবর্তীতে গত ১৩ মে তারিখে ভুক্তভোগী নারী কাটাখালী থানাধীন শ্যামপুর নগরপাড়া এলাকায় তার মায়ের বাড়িতে গিয়ে মা ও ভাইদের কাছে এই নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে সামান্য সুস্থ হয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে তিনি বেলপুকুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন৷
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক জানান, অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূলহোতা কথিত পীর আব্দুল হামিদ ফকির ঘটনার পর থেকেই পলাতক। বর্তমানে তার আস্তানায় তালা ঝুলছে।
"মূল আসামী আব্দুল হামিদ ফকিরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।