জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত ‘পুশ-ইন’-এর শিকার সেই বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। তিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দীর্ঘ তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তার পরিচয় নিশ্চিত করার পর, প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন মৎস্যজীবী ও কৃষক। তিন মাস আগে তিনি হঠাৎ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার তার কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে সীমান্তে তার খোঁজ মেলার পর তাকে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী বকশীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন তিনি
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের সব সন্তানের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি মাছ ধরে এবং কৃষিকাজ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী জানান, মানসিক অসুস্থতার কারণে পরিবার তাকে সবসময় চোখে চোখে রাখত। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করার একপর্যায়ে তিন মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ট্রেনে চড়ে এলাকা ছেড়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে চলে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।
উল্লেখ্য, কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার হয়ে এই বৃদ্ধ প্রায় ২৪ ঘণ্টা শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।