আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০১:১৮:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০১:১৮:৩০ অপরাহ্ন

সহযোগী স্বামী গ্রেপ্তার, কথিত পীর

​ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে গৃহবধূকে অচেতন করে ধর্ষণপলাতক


রাজশাহীর বেলপুকুর থানা এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে এক গৃহবধূকে (৪১) জিম্মি ও অচেতন করে ধর্ষণের লোমহর্ষক খবর পাওয়া গেছে।
 
তথাকথিত ‘আল-চিশতিয়া খানকা শরীফ’ নামের আস্তানায় নিয়ে নিজের স্ত্রীকে ভন্ড পীরের হাতে তুলে দিয়ে ধর্ষণে সরাসরি সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে খোদ স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বেলপুকুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
 
​মামলার আসামিরা হলেন, চক ধাদাশ দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত পাঁচু মন্ডলের ছেলে কথিত পীর আব্দুল হামিদ ফকির (৬৫) এবং ভুক্তভোগীর স্বামী মো: রুবেল (৩৪), যিনি বেলপুকুর থানার জামিরা (নতুন জামিরা) এলাকার মৃত মুসা শাহের ছেলে।
​
​এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ৬ মাস আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক রুবেলের সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা সংসার করে আসছিলেন। আব্দুল হামিদ ফকির চক ধাদাশ দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজের আমবাগানের ভেতর ‘খানকা শরীফ’ তৈরি করে নিজেকে আল-চিশতিয়া তরীকার পীর দাবি করে আসছিলেন। আসামি রুবেল ওই ভন্ড পীরের মুরিদ হওয়ার পর, গত ২ মাস আগে তার স্ত্রীকেও ফুসলিয়ে ওই আস্তানায় নিয়ে যান এবং বায়াত গ্রহণ করিয়ে মুরিদ বানান।
 
​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে স্বামী রুবেল তার স্ত্রীকে নিয়ে বাণেশ্বর বাজারে যান। সেখানে তাকে চুলের ক্লিপ ও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী কিনে দেওয়ার পর একটি জুস কিনে খাওয়ান। জুস খাওয়ার পরপরই ওই গৃহবধূ শারীরিক ও মানসিকভাবে অচেতন ও ভারসাম্যহীন বোধ করতে থাকেন। এই সুযোগে রুবেল তাকে নিয়ে পীরের দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় আস্তানায় পৌঁছান।
​সেখানে আব্দুল হামিদ ফকির একা অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২ রুবেল তার স্ত্রীর শরীরের কাপড় খুলে জোরপূর্বক খানকার ভেতর ঢুকিয়ে দেয় এবং নিজে দরজার বাইরে পাহারা দেয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আব্দুল হামিদ ফকির, স্বামী রুবেলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
​
​ধর্ষণের ফলে ওই নারী পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়ায় কোনো চিৎকার করতে পারেননি। পরে অচেতন অবস্থাতেই স্বামী রুবেল তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরদিন দুপুরে জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য স্বামী রুবেল তাকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।
 
​পরবর্তীতে গত ১৩ মে তারিখে ভুক্তভোগী নারী কাটাখালী থানাধীন শ্যামপুর নগরপাড়া এলাকায় তার মায়ের বাড়িতে গিয়ে মা ও ভাইদের কাছে এই নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
 
হাসপাতাল থেকে সামান্য সুস্থ হয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন৷ 
 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মূলহোতা কথিত পীর আব্দুল হামিদ ফকিরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
 
​এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভন্ড পীর ও কুলাঙ্গার স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক : বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : আরিফ হোসেন, বার্তা সম্পাদক : মোশারফ হোসেন, উপদেষ্টা : ফাতেমা বেগম
ই-মেইল: 24sonalirajshahi@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.sonalirajshahi.com, বার্তা বাহক নম্বর: 01715801785, 01766227626, 01784336244, 01712414708