আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানি, বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ




রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার কাজলা (বিলপাড়া) এলাকার মৃত মাসুদের ছেলে মুঞ্জুুর ও কাটাখালি থানার কাপাসিয়া এলাকার রফিকুলের ছেলে মো: সাকিল আলীর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি সহ নানাভাবে হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক মো: পাভেল ইসলাম মিমুল। তিনি দৈনিক বর্তমানের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এবং জাতীয় দৈনিক যায়যায় কালের উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় তিনি আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​রবিবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৪টায় নগরীর তালাইমারী বাজার এলাকার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
 
​অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ‘অটো চুরির’ আসল রহস্য
​ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে নামে সংবাদমাধ্যমের একটি বিশেষ টিম। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ মার্চ দুপুরে মুঞ্জুুর তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অটোরিকশা চালানোর নাম করে মিলন নামের এক যুবককে সাথে নিয়ে কাজলা এলাকায় যায়। সেখান থেকে অটোরিকশাটি নিয়ে কাটাখালি থানার কাপাসিয়া এলাকার মুঞ্জুুরের পূর্ব পরিচিত যুবক মো: সাকিলের গ্যারেজে যাওয়া হয়।
​এরপর সাকিলকে সাথে নিয়ে তারা চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজার এলাকার একটি অটো গ্যারেজে যায় এবং গাড়িটি বিক্রির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে কাপাসিয়া বাজারে সাকিলের নিজস্ব গ্যারেজে এনে অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে মুঞ্জুুরের হাতে দেওয়া হয়। বাকি ২০ হাজার টাকা পরে নেওয়ার কথা বলে মুঞ্জুুর সেখান থেকে চলে যায়।
 
​নিজেকে বাঁচাতে চুরির নাটক ও সাংবাদিককে ব্যবহার
​ব্যাটারি বিক্রি করে এসে মুঞ্জুুর তার নিজের অপরাধ আড়াল করতে সাংবাদিক পাভেল ইসলাম মিমুলকে মুঠোফোনে কল দিয়ে বলে, "ভাই, আমার অটোরিকশা চুরি হয়ে গেছে। আপনি আসেন, কথা বলবো।" গাড়ি চুরির কথা শুনে সাংবাদিক মিমুল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। থানায় অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে মুঞ্জুুর 'না' সূচক জবাব দেয়। গাড়িটির নম্বর (কে এইচ এ-০৪৭৪৩, সবুজ রঙ) নিশ্চিত করে মুঞ্জুুর জানায়, গাড়িটি গোবিন্দপুর এলাকায় আছে এবং সে মালিককে জানিয়ে এসেছে।
 
​তার কথামতো সাংবাদিক মিমুল, ওমর আলী ও রেন্টুসহ স্থানীয় যুবকদের নিয়ে চারঘাটের গোবিন্দপুর বাজার এলাকায় খোঁজ নেন। কিন্তু সেখানে গাড়ি না পেয়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে কাপাসিয়া বাজারে সাকিলের তালাবদ্ধ গ্যারেজে যান। গ্যারেজের গেটে থাকা নম্বরে ফোন করা হলে সাকিলের পিতা মো: রফিকুল এসে তালা খোলেন। ভেতরে গাড়ির নম্বর প্লেট খোলা অবস্থায় ওই অটোরিকশাটি পাওয়া যায়। চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়।
​
​ঘটনাস্থলে সাকিলের স্ত্রী খাদিজা এসে সাংবাদিকদের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় এবং দাবি করে তার স্বামীও সাংবাদিক। পরে সে একটি ভিজিটিং কার্ড দেখায়, যেখানে লেখা ছিল: সাকিল আলী, ক্যামেরাম্যান, আলোকিত তালাশ ৮৪।
 
​এই বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'আলোকিত তালাশ ৮৪' এর সম্পাদক এস এম কাজিম বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
​"সাকিল আলী একজন ভুয়া ফটো সাংবাদিক। সে আলোকিত '৮৪' তালাশের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আমাদের নিউজ পোর্টালের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
​
​ঘটনাটি জানাজানি হলে আরএমপির কাটাখালি থানার এসআই রাজ্জাক ও এএসআই ওমর ফারুক ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সাকিলের পিতা রফিকুলকে আটক করেন। পরে রফিকুল ভুল স্বীকার করে ব্যাটারি এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে পুলিশ তাকে সুযোগ দেয়। রফিকুল গোবিন্দপুর এলাকা থেকে ব্যাটারিগুলো এনে মিস্ত্রি দিয়ে গাড়িতে লাগিয়ে দেয়। এরপর মুঞ্জুুরকে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার ডাকা হলেও সে না আসায় পুলিশ অটোরিকশাটি থানায় নিয়ে যায়।
​পরবর্তীতে (২২ মে) শুক্রবার দুপুরে মুঞ্জুুর আবারও গাড়িটি থানা থেকে ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিক মিমুলের সহযোগিতা চায়। তখন প্রকৃত মালিকের চাপে পড়ে মুঞ্জুুর কাটাখালি থানায় হাজির হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়ারিশের উপস্থিতিতে মুঞ্জুুর নিজের চুরির সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে এবং মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে গাড়িটি বুঝে নেয়।
​
​নিজের অপরাধ ঢাকতে মুঞ্জুুর ও সাকিল চক্র সাংবাদিক পাভেল ইসলাম মিমুলের বিরুদ্ধে "সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা ও ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ" শিরোনামে বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করায়। কোনো ষড়যন্ত্রে কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মিমুলকে হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মতিহার থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
​
সাংবাদিক পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন,
​"আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র। আমার কাছে ও প্রতিবেদকদের কাছে গাড়ি উদ্ধারের ভিডিও এবং পুলিশের সাথে কথোপকথনের কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসন যেন কোনো পক্ষ না নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে।"
​
​এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, "আমরা সাংবাদিক পাভেল ইসলাম মিমুলের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
সম্পাদক : বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : আরিফ হোসেন, বার্তা সম্পাদক : মোশারফ হোসেন, উপদেষ্টা : ফাতেমা বেগম
ই-মেইল: 24sonalirajshahi@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.sonalirajshahi.com, বার্তা বাহক নম্বর: 01715801785, 01766227626, 01784336244, 01712414708